কিভাবে করবেন কনটেন্ট মার্কেটিং?

 

কিভাবে করবেন কনটেন্ট মার্কেটিং?
পূর্বে আমার কিছু পোস্টে কনটেন্ট এবং কনটেন্ট মার্কেটিং এর ফলাফল শেয়ার করেছিলাম। অনলাইনে একটা ব্র্যান্ড বিল্ড করার জন্যে ভালো মানের কনটেন্ট এবং ঠিকমতো কনটেন্ট মার্কেটিং যথেষ্ট (ব্র্যান্ডিং এর কিছু কাজ ঠিকঠাক মতো থাকলে)
কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো কনটেন্ট মার্কেটিং কিভাবে করবেন? সবাই বুঝে, ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, কনটেন্ট মার্কেটিং করতে হবে কিন্তু কনটেন্ট মার্কেটিং করবে কিভাবে, এখানেই আটকায়ে যায় অনেকে। চলেন আজকে শিখি কনটেন্ট মার্কেটিং কিভাবে করা যায়।
💥কনটেন্ট মার্কেটিং কি?
কনটেন্ট মার্কেটিং হলো এমন একটি মার্কেটিং পন্থা যেখানে পণ্য বা সেবা সরাসরি প্রচার করার পরিবর্তে এমন কনটেন্ট (লেখা, ভিডিও, ছবি, পডকাস্ট ইত্যাদি) তৈরি করা হয় যা লক্ষ্য-গ্রাহকের জন্য মূলবান, প্রাসঙ্গিক, এবং নিয়মিত। এর মাধ্যমে গ্রাহককে আকৃষ্ট, ধরে রাখা এবং শেষমেশ তাদের দিয়ে লাভজনক উপায় (প্রোডাক্ট/সেবা ক্রয়, লিড, রেফারেল ইত্যাদি) অর্জন করা হয়।
💥এটা হচ্ছে বইয়ের ভাষা, তবে আমি যদি একদম সহজ করে নিজের মতো করে বলি, তাহলে, কনটেন্ট মার্কেটিং হলো, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর চাহিদা বুঝা, তাদের পেইন পয়েন্ট বুঝা, এক কথায় তাদের সমস্যা বুঝে, সমস্যা অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করে তাদের সামনে উপস্থাপন করা। এটাই হচ্ছে কনটেন্ট মার্কেটিং।
আর এই কনটেন্ট এবং কনটেন্ট মার্কেটিং যত ভালোভাবে করতে পারবেন আপনি তত তাড়াতাড়ি একটা ব্র্যান্ডের মালিক হতে পারবেন। তত বেশি সেল'স জেনারেট করতে পারবেন। কনটেন্ট মার্কেটিং যত ভালো করতে পারবেন Ads Cost তত কমাতে পারবেন।
তাহলে কি বুঝলাম? আমার টার্গেট অডিয়েন্স এর সমস্যা বুঝা, তাদের চাহিদা বুঝা এবং সেই অনুযায়ী কনটেন্ট দিয়ে সমাধান করা।
💥এখন প্রশ্ন কিভাবে করবেন?
সর্বপ্রথম আপনার কনটেন্ট দ্বারা লক্ষ্য কি সেটা আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে? সবসময় শুধু সেল'স এর জন্যে কনটেন্ট তৈরি করলে ব্র্যান্ড হতে পারবেন না সাথে সেল'সও বেশি পাবেন না। ব্র্যান্ড বানাতে হলে এবং মার্কেটে রাজ করতে চাইলে Awarness, Engagement, Sales সব ধরণের কনটেন্ট বানাতে হবে। তো সর্বপ্রথম আপনার কনটেন্ট দ্বারা উদ্দেশ্য কি সেটা নির্ধারণ করে ফেলুন। মনে করেন, কনটেন্ট দ্বারা উদ্দেশ্য ব্র্যান্ড Awerness তৈরি করা। অর্থ্যাৎ আমি মার্কেটে আছি বা আমার ব্র্যান্ড মার্কেটে আছে এটা মানুষকে জানানো। আমার ব্র্যান্ড আরো বেশি মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করা।
এরপর আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা? টার্গেট অডিয়েন্স অনুযায়ী আপনাকে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। মনে করেন, আপনার স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট আর টার্গেট অডিয়েন্স ২০-২৫ বছরের। এই বয়সের মানুষজন কিন্তু একটু বিনোদন, একটু আবেগী হয়ে থাকে। ঠিক তাদের ওই টোন ধরে রেখে আপনাকে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তারা একটু ইমোশনাল একটু আবেগী কিন্তু আপনি সবসময় মুরব্বী টাইপের কনটেন্ট বা গুরুগম্ভীর কনটেন্ট বানান তাহলে কিন্তু অডিয়েন্স হারাবেন‼️
💥তাহলে আপনার সর্বপ্রথম উদ্দেশ্য কনটেন্ট দ্বারা মানুষকে Aware করবেন। কোন মানুষদের Aware করবেন? যাদের বয়স ২০-২৫ বছর। এখন ২০-২৫ বছরের সব মানুষকে Aware করবেন? না সব মানুষ তো আর আপনার অডিয়েন্স না, তাই সব মানুষকে Aware করলে হবেনা। তাহলে কাদের Aware করবেন? মনে করেন আপনার প্রোডাক্ট মেয়েদের স্কিন কেয়ার তাহলে মেয়েদেরকে Aware করতে হবে। কিন্তু সব মেয়ে আবার স্কিন নিয়ে সচেতন না। বেশিরভাগ স্কুল,কলেজ, ভার্সিটিতে পড়ুয়া মেয়েরা স্কিন নিয়ে সচেতন। বিবাহিত মেয়েরাও সচেতন, তবে তার সংখ্যা কম। তবে, যেহেতু আপনার এই কনটেন্ট দ্বারা উদ্দেশ্য Brand Awarness তৈরি করা সেহেতু আপনি, যারা স্কিন নিয়ে সচেতন না তাদেরকেও টার্গেট করতে পারেন। যদি তাদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে স্কিনের গুরুত্ব বুঝিয়ে সেল'সে কনভার্ট করতে পারেন তাহলে তো আপনার'ই লাভ। তাহলে কাদেরকে Aware করবেন তাও পেয়ে গেলেন।
এখন প্রশ্ন তাদের Pain Point কি? বা তারা কি ধরণের সমস্যাতে ভুগে? যাদেরকে টার্গেট করেছেন তারা স্কিন সম্পর্কিত কি ধরণের সমস্যাতে ভুগে? তাদের মুখে ব্রণ, মেছতা, ডার্ক সার্কেল সহ স্কিনের নানান সমস্যা হয়। এই সমস্যার সমাধান তারা চায়।
💥তাহলে আপনার কনটেন্ট এর উদ্দেশ্য Brand Awarness তৈরি করা। কনটেন্ট এর টার্গেট অডিয়েন্স 20-25 বছরের নারী।তাদের Pain Point বা তারা যে সমস্যাতে ভুগে তা হলো স্কিনে ব্রণ, মেছতা, ডার্ক সার্কেল সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা।
তাহলে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর সমস্যা তাদের চাহিদা বা চাওয়া পাওয়া কিন্তু বের হয়ে গেলো। এবং আপনার চাহিদাও (Brand Awerness তৈরি করা) বের হয়ে গেলো। এবার সুন্দর করে অডিয়েন্স অনুযায়ী একটা Awarness কনটেন্ট তৈরি করে ফেলবেন। এখানে কনটেন্ট যত ভালো হবে, Aware তত বেশি এবং ভবিষ্যৎ-এ সেল'সও তত বাড়বে।
💥কিভাবে ভালো কনটেন্ট তৈরি করবেন, তা আমার পূর্বের অনেকগুলো পোস্টে পাবেন। মনে চাইলে পড়ে আসতে পারেন।
💥তাহলে Awarness Content কি হতে পারে? Awarness Content হতে পারে, আমাদের মুখে কেন ব্রণ হয়? ব্রণ কমানোর ৫ টি টিপস। এরপর চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল কেন হয়? এরকম নানান ধরণের Awarness Content হতে পারে। এখানেও কনটেন্ট এবং কনটেন্ট এর Hook আগুনের মতো শক্তিশালী হতে হবে। তাহলে রকেটের গতীতে Aware এবং Sales হবে।
এখন আপনার অডিয়েন্স যদি লিখিত কনটেন্ট পড়তে বেশি ভালোবাসে তাহলে লিখিত কনটেন্ট তৈরি করেন আবার যদি তারা ভিডিও দেখতে বেশি ভালোবাসে তাহলে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন। তারপর, তারা কোথায় বেশি সময় কাটায়? ফেসবুকে নাকি ইনস্টাগ্রামে নাকি টিকটকে নাকি ইউটিউবে? নিউজফিডে নাকি রিলস বা শর্টস-এ? যেখানে বেশি সময় কাটায় সেই ফরম্যাটে কনটেন্ট বানিয়ে সেখানে আপলোড করুন এবং প্রচার করুন। মনে রাখবেন, কনটেন্ট যত ভালো হবে তত বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ-এ সেল'স বাড়বে।
💥এরপর কনটেন্ট এর ফলাফল বিচার বিশ্লেষণ করুন। আপনার অডিয়েন্সদের বিচার বিশ্লেষণ করুন। তাদের বর্তমানের নতুন সমস্যা বা চাহিদা বুঝার চেষ্টা করুন। আবার তাদের সমস্যা বা চাহিদা অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করুন। এভাবেই কনটেন্ট মার্কেটিং করুন।
আর একদম সহজভাবে বলতে গেলে এটাই কনটেন্ট মার্কেটিং 🤷‍♂️কনটেন্ট এবং কনটেন্ট মার্কেটিং নিয়ে পূর্বে আমার আরো পোস্ট পাবেন।মনে চাইলে পড়ে আসতে পারেন।
আজকে এই পর্যন্ত'ই, ধন্যবাদ🖤
Previous Post Next Post

نموذج الاتصال